izmir kizlar
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam inönü üniversitesi taban puanları

সোনারপাড়া আহমদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও নামকরণের ইতিহাস

FB_IMG_1591092328006.jpg

এম হেলাল আহমদ রিজভী।।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলাধীন অন্যতম দ্বীনি প্রতিষ্টান সোনারপাড়া আহমদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা। এটি জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া এলাকায় অবস্থিত।

প্রসঙ্গ কথাঃ

উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া গ্রামের দুইজন প্রবীণ আলেমেদ্বীন আলহাজ্ব মাওলানা ছালামত উল্লাহ ও আশরাফ আলী (রাহঃ) উভয়ই ভারত রাজ্য তৎকালীন হিন্দুস্তানের বেরেলী’তে অবস্থিত “মাসলাকে আ’লা হযরত” এর উপর প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য দ্বীনি মারকায “মানযারুল ইসলাম বেরেলী শরীফ” থেকে টাইটেল (সর্বোচ্চ ডিগ্রী) পাশ করেন। ভারত রাজ্যে গমনের পর থেকে ১৯৫০ সাল পরবর্তী সময় পর্যন্ত তারা উক্ত মাদরাসা থেকে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করার সুবাদে অসংখ্য কিতাবের প্রণেতা, বিশেষতঃ হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য ফতোয়াগ্রন্থ “বাহরে শরিয়ত” এর লেখক সদরুশ শরীয়ত মুফতী আমজাদ আলী সাহেব (রাহঃ) এর কাছ থেকে শিক্ষা অর্জনের সৌভাগ্য লাভ করেন। সেখান থেকে অধ্যাপনা শেষ করে গ্রামে এসে আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এর সন্তুষ্টি অর্জনের মানসে ইসলামের সঠিক রুপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম’আত তথা মাসলাকে আ’লা হযরতের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সালে উখিয়া উপজেলাধীন জালিয়াপালং ইউনিয়নের সর্বোচ্চ দ্বীনি শিক্ষার মারকায “সোনারপাড়া আহমদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা” প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।

মাদরাসা প্রতিষ্ঠাঃ
১৯৫৭ সালে তারা তৎকালিন প্রবীন আলেমগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যেমন, মরহুম ফজলুল করিম মাষ্টার,
মরহুম আব্দুল আজিজ মিয়া (জনাব ফজলুল কাদের সাবেক মেম্বার সাহেবের দাদা ও পিতা), মরহুম দলিলুর রহমান মাষ্টার (মাদরাসা পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি এসএম ছৈয়দ আলমের পিতা), মরহুম আহমদ হোসাইন মাষ্টার (সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাকের হোসাইন মাষ্টারের পিতা), মরহুম হাজী আহমদ হোসাইন (সাবেক শিক্ষক মরহুম মাওলানা শামশুল আলমের পিতা), মরহুম আব্দুল জলিল (দাতা সদস্য -মৌলভী কামালের পিতা) ও নাম না জানা আরো অসংখ্য গুনিজনসহ স্থানীয় ধর্মানুরাগী ব্যক্তিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সোনারপাড়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করে একই বছর সালানার জলসার মাধ্যমে মাদরাসা উদ্বোধন ঘোষনা করার পদক্ষেপ গ্রহন করেন। উক্ত উদ্বোধনী জলসায় প্রধান মেহমান ছিলেন, আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা (রাহঃ)’কে। (কক্সবাজারের দক্ষিনাঞ্চলে শেরে বাংলা হুজুর এই একবারই এসেছিলেন।) হুজুরের সফরসঙ্গী হয়ে ছিলেন আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী (রাহঃ)। শেরে বাংলা হুজুরের নির্দেশনায় আল্লামা হাশেমী সাহেব হুজুর পরবর্তীতে আরো কয়েকবার এই মাদরাসার সালানা জলসায় এসেছিলেন৷

মাদরাসার সালানা জলসায় শেরে বাংলা ও ইমাম হাশেমি (রাহ) উখিয়া আসছেন খবর শুনে মুফতী আল্লামা ইদ্রিস রজভী (মাঃ) বোয়ালখালী থেকে বিনা দাওয়াতে চলে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল্লামা ইদ্রিস রজভী সাহেবকে আসতে দেখে মাওলানা ছালামত উল্লাহ ও আশরাফ আলী (রাহঃ) উভয়ই প্রাণের দোস্তকে সম্ভাষন জানাতে মঞ্চ ছেড়ে দৌঁড়ে গিয়ে কার আগে কে বুকে জড়াবে সে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। জলসায় উপস্থিত জনতা তা দেখে সেইদিন বিমোহিত হলেন,দেখলেন তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন কেমন ছিল।

তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে মাদরাসার সালানা জলসায় গারাঙ্গিয়ার বড় হুজুর, ছোট হুজুর (রাহঃ), জামেয়ার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা ওয়াকার উদ্দিন (রাহঃ), আল্লামা মোবারক সাহেব (রাহঃ), এই মাদরাসার প্রতিবছর সভার নিয়মিত বক্তা মাতারবাড়ীর আল্লামা উকিল আহমদ মজিদি (রাহঃ), লোহাগাড়ার আল্লামা শফিক সাহেব (রাহঃ), বদরখালীর আল্লামা জাফর আহমদ বদরী (রাহ), আল্লামা আবুল কাশেম নুরী (মাঃ), স্থানীয়দের উদ্যোগে মাহফিলে জামেয়ার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরী (রাহঃ), বর্তমান অধ্যক্ষ আল্লামা অসিয়র রহমান আল কাদেরী, আল্লামা আবু সুফিয়ান আল কাদেরী, জামেয়ার মুহাদ্দিস আল্লামা আশরাফুজ্জামান আল কাদেরী, বায়তুশ শরফের হযরত কেবলা আব্দুল জব্বার (রাহঃ), পীর কুতুব উদ্দিন (রাহঃ), রাউজানের আল্লামা হাফেজ রুহুল আমিন আল কাদেরী সাহেব, মাওলানা মুফতী আব্দুল আজিজ রজভীসহ দেশের খ্যাতনামা অনেক মুহাক্কিক সুন্নি আলেমগণ আজ অবধি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে আসছেন।

মাদরাসার নামকরণঃ

সোনারপাড়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতাদ্বয়’সহ এই এলাকার স্বাধীনতা পূর্ব সময়ের অসংখ্য মুরব্বী আলেমগণের ওস্তাদ সদরুশ শরীয়ত মুফতী আমজাদ আলী (রাহঃ) এর ওস্তাদ ও মুর্শিদ ছিলেন।

১৫০০ উর্দ্ধে কিতাবের লেখক, ইমামে ইশকে মোহাব্বত, রাহবারে সুন্নিয়ত, চতুর্দশ শতাব্দীর মোজাদ্দিদ, মোজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত অর্থাৎ, ইমাম আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজা খাঁন ফাজেলে বেরলভী (রাহঃ)। (যুগশ্রেষ্ট দার্শনিক আল্লামা ড.ইকবাল (রাহঃ) যাকে সেই যুগের ইমাম আজম আবু হানিফা বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন)।

মূল নাম- আহমদ রেজা খাঁন (রহঃ)। সবাই ডাকতেন “রেজভী সাহেব” নামে। আ’লা হযরতের মূল নাম “আহমদ”। এই নাম থেকে “আহমদিয়া” নামকরণ এবং
অত্র এলাকায় সে সময় থেকে সর্বস্তরের জনগণ আহলে সুন্নতের আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন বলে “সুন্নিয়া” শব্দটিও সংযোজন করেন।

সুতরাং,মাদরাসার নামটি দাঁড়ায়-
“সোনারপাড়া আহমদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা”।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ১৯৮৬ সালে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যখন দাখিল মঞ্জুরীর জন্য মাদরাসা বোর্ডে আবেদন করে। তখন বোর্ডের সাথে ডিলকারীর সামান্য ভূলের কারণে আবেদন ফরমে “আহমদিয়া সুন্নিয়া” নামটি বাদ পড়ে যায়। তারপরেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সবকিছুতে পুরো নামটি ব্যবহার করে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ।

বর্ণনার তথ্য সুত্রঃ
মাদরাসার সাবেক সুপার মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ তৈয়ব সাহেব (রাহঃ)। পরবর্তীতে অনেকের মুখ থেকে শুনেই, সেই বর্ণনামতে লিখা।

উৎসর্গে-
আল্লামা হাশেমী (রাহঃ), শাহ ছালামত উল্লাহ, আশরাফ আলী, মুহাম্মদ তৈয়ব (রাহঃ)।

লেখকঃ মাদরাসার সাবেক ছাত্র।

Top