izmir kizlar
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam inönü üniversitesi taban puanları

ওসি শাহজাহান ক্লোজঃ কক্সবাজারের খরুলিয়ায় নবী হোসেন হত্যায় নেপথ্যে কারা!

IMG_20200813_163243.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক।।

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া বাজার ইয়াবা ব্যবসায়ী তকমা নিয়ে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ নবী হোসেন (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গেল দুই দিন ধরে উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র কক্সবাজার জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

নিহত যুবক নবী হোসেন ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম মুক্তারকুল এলাকার মৃত আব্দু শুক্কুরের ছেলে।

১০ আগস্ট খরুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ইয়াবা সেবনকারীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র কক্সবাজার সদর মডেল থানার চৌকস পুলিশ অফিসার(ওসি) মো: শাহজাহান কবির কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়ও। অনেকে দাবী করেন, গণপিটুনি দিয়েছে খরুলিয়ার জনগণ, ওসি প্রত্যাহার কেনো? অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি জানিয়েছেন।

সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল হতে চিকিৎসা শেষে নবী হোসেন কে পুনরায় থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। পরে তার অবস্থা বেগতিক হলে আবারো সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার রাতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে,এরশাদ,কালু,কামাল ও আনোয়ার সহ একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর দল রয়েছে খরুলিয়া বাজার এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় টাকা ছিনতাই,ইয়াবা ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে জড়িত। তাদের পিছনে শেল্টার দেওয়ার জন্য রয়েছে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি। তারা নবী হোসেনের কাছে থাকা টাকা লুটপাট করতে গিয়ে ঘটনার মোড় ঘুরে গেছে। ভয়ে এখন কেউ মুখ খুলছে না তাদের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে খরুলিয়া বাজার এলাকায় নবী হোসেন একটি চনামুড়ির দোকানে অবস্থান করছিল। খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার ঐ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের খপ্পরে পড়ে সে। ছিনতাইকারীর দল তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে এক পর্যায় হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে তার আন্ডারওয়্যার (প্যান্ট) হতে একটি মোটা অংকের টাকা বেরিয়ে আসে এবং কোমরে একটি ছুরি পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে পাওয়া ১৩ পিচ ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন। অনেকে বলছেন ইয়াবা ও গাঁজা সাজানো। তার কাছে থাকা নগদ ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা হালাল করতে না পেরে ইয়াবা ও গাঁজা দিয়ে থাকে মাদক কারবারী সাজানো হয়েছে। নবী হোসেন একজন চিহ্নিত ইয়াবা ও গাঁজা সেবনকারী।কিছুক্ষনের মধ্যে আরো লোক ঝড়ো হয়ে পড়ে। ঐ সংঘবদ্ধদল তাদের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল হতে এনাম নামের একজন দোকানদার চেয়ারম্যান টিপু সুলতানকে ফোনে জানান, একজন লোক টাকা ও কিছু অবৈধ জিনিসপত্রসহ আটক করা হয়েছে। জানার পর চেয়ারম্যান কিছুক্ষনের মধ্যে ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরীফ উদ্দীন কে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কথিত খুচরা ইয়াবা কারবারী নবী হোসেন হঠাৎ সাথে থাকা ছুরি নিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে চেষ্টা করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন টমটম চালক সাহাব উদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন। নবী হোসেন অনেকদূর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু উৎসুক জনতা তাকে ধাওয়া করে। পরে ধরতে সক্ষম হয় । ধরে আনার পর চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে উপস্থিতিতে জনতা গণধোলাই দেওয়া শুরু করে। যদিও গণধোলাইয়ের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা মুখ খুলছে না। এরই মধ্যে খরুলিয়া বাজারে নবী হোসেনকে প্রথমে যেখানে আটক করা হয়েছিল, সেখান থেকে উদ্ধারকৃত ১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা উধাও হয়ে যায়। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দোকান মালিক সমিতির লোকজন সহ ঐ ছিনতাইকারী দল হতে টাকা উদ্ধার করেন।

এদিকে, চেয়ারম্যান টিপু সুলতান সদর মডেল থানায় বিষয়টি অবগত করেন ও পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

সদর থানা সুত্রে জানা যায়, এসআই অঞ্জনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম আহত নবী হোসেনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়। জব্দকৃত মালামাল ও ঘটনার বর্ননা দিয়ে স্থানীয় এনাম সওদাগর ও আজিম সওয়াদার সহ আরো কয়েকজনকে স্বাক্ষী রেখে তাদের স্বাক্ষর নেন এসআই অঞ্জন।

নিহতের বড় ভাই আলী হোসেনের দাবি,খরুলিয়া কাঠ ক্রয় করতে গিয়েছিল নবী হোসেন। তার কাছে থাকা টাকার লোভে, সেখান তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নবী হোসেনের স্ত্রী রেল লাইনের ভূমি অধিগ্রহনের টাকা পায়। সেই টাকা দিয়ে তার ভাঙ্গাচুড়া ঘর মেরামত করার উদ্দ্যেশ্যে কাঠ কিনতে বাজারে যায়। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরে। প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় শরীফ উদ্দিন মেম্বারে ২ নং আসামী করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও চেয়ারম্যান টিপু সুলতান এবং তার ভাইকে মামলায় আসামী না করায় এলাকা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে।

নিহতের ভাই আলী হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) রাতে ১২ জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৬৫৭)।

আসামীরা হলেন, এরশাদ উল্লাহ (২৮),মো:শরীফ উদ্দীন মেম্বার (৩৫),আনোয়ার হোসেন (২২),হামিদ উল্লাহ প্রকাশ কালু (২৪),জসিম উদ্দীন (৩২),
আলম (৩০), হাসান (৩০), মো: রুবেল (২৩), মো:খোকন (১৯),নুরুল আজিম (২৮),আবছার
কামাল (৩৫) ও মো:বাদশা (৩০)।

Top