izmir kizlar
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam inönü üniversitesi taban puanları

কক্সবাজারে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক-২

IMG_20200908_213239.jpg

মো.শাহাদত হোছাইন।।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ,একাধিক বিচারক, নকলখানার প্রধান,জেলা প্রশাসক,জেল সুপার,পৌর মেয়র,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সীল নকল-স্বাক্ষর করে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছেন আইনজীবী নামধারী মইন নামের একপ্রতারক ও তার সহকারী কম্পিউটার অপারেটর খুরুশকুল পঞ্চায়েতপাড়া এলাকার হারাধন চন্দ্র নাথকে আটক করে। আটক দুজনকে কক্সবাজার সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

কক্সবাজার আদালতপাড়া এলাকার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলার এডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেনের ২০ নং চেম্বার থেকে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ভিজিল্যান্স টিমের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

আটক মোহাম্মদ মইন উদ্দিন কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল রাস্তার পাড়া মোহাম্মদ ইউনুসের ছেলে। তবে কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় বসবাস
করে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহজাহান আলীর নির্দেশে আরডিসির রায়হান কায়সারের নেতৃত্বে এক অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়।

কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির ভিজিল্যান্স টিম সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসা মইন উদ্দিনের প্রতারণা সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির নজরে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনজীবী সমিতির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার কক্ষে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রতারকের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ২৩ টি সীলমোহর ও মামলার নথিসহ বিভিন্ন বিষয়ের একাধিক জাল ডকুমেন্ট। এরপর প্রতারক মইন উদ্দিনের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মসজিদ মার্কেটের নিচ তলার কম্পিউটার দোকান হাজী এন্টারপ্রাইজেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে থেকে প্রতারণার সামগ্রী এবং জাল ডকুমেন্টসহ নগদ ৭০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত তার কক্ষ সীলগালা করে দেন। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায় আইনজীবী সহকারী শাহেদুল ইসলাম ও তার সহযোগী কম্পিউটার অপারেটর মো.শফি। শাহিদুল ইসলাম কক্সবাজার পৌরসভার টেকপাড়ার ইউছুপ জালালের ছেলে এবং কক্সবাজার আইনজীবী সহকারী সমিতির ৬৪২ নং সদস্য বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে,আদালতের কাছে প্রতারক মইন নিজের অপরাধ স্বীকার করলে আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেন।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ও ভিজিল্যান্স টিম (ফৌজদারী) কমিটির আহবায়ক অ্যাড. হোসাইন রাফাত ফিরোজ (রাজীব) বলেন,প্রতারক মইন দীর্ঘদিন ধরে আদালত এলাকায় প্রতারণা করে যাচ্ছেন। জেলা ও দায়রা জজ, নকল খানার প্রধান,জেল সুপার,ডিসিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সীল ও স্বাক্ষর নকল করেন তিনি। এমনকি জেলা ও দায়রা জজের সীল-স্বাক্ষর নকল করে ভূয়া ডকুমেন্ট তৈরী করে হাইকোর্ট থেকে আসামীর জামিন নিয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ভূয়া জামিন কপি দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাও করেছে। জামিন ফর্মে ভূয়া সাইন দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মইন উদ্দিন নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিত। কিন্তু তিনি আইনজীবী বা আইনজীবী সহকারী কোনটাই নয়। সম্প্রতি তার প্রতারণার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। মইন উদ্দিনের মত টাউটদের আইনের আওতায় আনতে আইনজীবী সমিতি কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাসুম খান জানান,কক্সবাজার আইনজীবী সমিতি কর্তৃক দুজন প্রতারককে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে হস্তান্তর করে। তারা থানা হেফাজতে আছে। কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

Top