izmir kizlar
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam inönü üniversitesi taban puanları

কক্সবাজারে বরফ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যঃ জিম্মি দশা থেকে মুক্তির প্রতিবাদে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বেচাকেনা বন্ধ

received_735550577027980.jpeg

মোঃশাহাদত হোছাইন।।

সিন্ডিকেট করে বরফের দাম বৃদ্ধি করার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ বেচাকেনা বন্ধ ঘোষণা করেছেন কক্সবাজারের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। অতি মুনাফা লোভী মিল মালিকদের বরফ নিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান কক্সবাজার ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

সূত্রে জানা গেছে,কক্সবাজারে ১৭ টির মতো বরফকল রয়েছে। যেখানে ২০ থেকে ২৪ কেজি ওজনের ১ হাজার ২শ পিস মতো বরফ উৎপাদন হয়। অথচ,ভরা মৌসুমে কক্সবাজারে ২ হাজার পিস বরফের চাহিদা। সংকটেও বাহির থেকে বরফ কিনে আনতে গেলে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ মৎস্য ব্যবসায়ীদের।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন,অতি মুনাফালোভী মিল মালিকরা বরফ ব্যবসাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তাদের কারণে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কক্সবাজারের ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা। এক পিস বরফের উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ টাকা হলেও তারা কিছুদিন ধরে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা করে বিক্রি করছে। তাদের কাছ থেকে কেনা ছাড়া অন্যস্থান থেকেও কোন বরফ আনতে দেয়া হচ্ছে না। ৬ নম্বর জেটি ঘাট ও ফিশারিঘাট এলাকার বেশ কিছু বরফ মালিক সরকারি দলের সাথে যুক্ত থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপট খাটানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ ও ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদে বরফ কেনা বন্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছে। বন্ধ রয়েছে মাছ বেচাকেনা। এতে সাগর থেকে আহরিত মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরা ট্রলার মালিকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। কোন ব্যবসায়ী মাছ কেনাবেচা না করায় ট্রলার থেকে মাছ নামাতে পারছেন না। ফলে অনেক ট্রলারে মাছ পঁচে যাচ্ছে বলে দাবি ট্রলার মালিকদের।

বিক্ষোভকারীরা আরো অভিযোগ করেন,স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বরফ খুবই নিম্নমানের ও ওজনে কম। সময় মতো পাওয়াি যায় না। এরপরও বরফ ব্যবসায়ী
মালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ফিশিংবোট মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। সঠিক সময়ে বরফ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী। ক্ষতি পোষাতে না পেরে অনেকে ব্যবসা বন্ধ রেখেছে। যারা ব্যবসায় আছে তারাও লোকসান গুনে চলছে। আর অধিক মুনাফায় ফুলছে বরফকল মালিকেরা।বিষয়টি সন্তোষজনক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত একটি মাছও ক্রয়-বিক্রয় হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান,১৫০ টাকার বরফ ৫০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বরফের ঘাটতি পূরণে বাইর থেকে আনতে গেলেও বাধা দেয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত বরফ আকারে বড় হলেও ভেতরে পুরো ফাঁকা। ওজনে ঠকানোর কারণে এ বরফ কিনে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম,নোয়াখালী,চাঁদপুর,খুলনা, মহিপুর থেকে বরফ কিনে আনছে ব্যবসায়ীরা। তাতেও বাঁধা অসাধু বরফকল মালিকদের। এ কারণে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কর্মসূচী চলছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) কক্সবাজার কেন্দ্রের প্রধান মো.জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভকারিরা আমার চেম্বারে এসেছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই এর সুষ্ঠু একটি সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম চিশতি, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাশি,জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওসমান গণি টুলু, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম পুতু,ব্যবসায়ী নেতা নাসির উদ্দিন বাচ্চু।

এছাড়া,কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি ও কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দসহ সকল মৎস্য ব্যবসায়ীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

Top