izmir kizlar
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam inönü üniversitesi taban puanları

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জীবন.. হারিয়ে যাচ্ছে ছুটি,সে সাথে গ্রীষ্মকালীন ছুটিও

shahadat-hossain.jpg

আমার কলম:মো.শাহাদত হোছাইন ।।

একজন ব্যক্তি তার জীবনকে পরিচালিত করেন তার অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। একটি সমাজ তথা রাষ্ট্র পরিচালনায়ও একটি লক্ষ্য থাকে। লক্ষ্যটি অবশ্যই উন্নতি সাধনের জন্য নির্ধারণ করা হয়। যেকোনো লক্ষ্যে সফল হওয়ার একমাত্র মূলমন্ত্র হচ্ছে-কাজ, কাজ এবং কাজ। মানবজাতি তার কাজের মাধ্যমেই ‘গুহাজীবন’ ত্যাগ করে আজকের চাকচিক্যময় সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে। যেহেতু এই সভ্যতার রূপকার মানবসমাজ তাই সত্যটিও প্রতিষ্ঠিত কাজের পাশাপাশি মানুষ তার চিত্তকে বিকশিত করতে নানা সময়ে নানাভাবে বিশ্রামের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই বিশ্রাম তার কর্ম পরিকল্পনাকে নষ্ট করেনি, বরং কর্মস্পৃহাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। যেকোনো কাজের মাঝেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পরবর্তী কার্য সম্পাদনকে সহজ করে, সৃজনশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করে, এ কথাকে মাথায় রেখেই ভবিষ্যতের কর্মনির্ধারক অর্থাৎ আজকের শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পাঠগ্রহণকে সহজসাধ্য আনন্দদায়ক করতে এবং নবউদ্যমে বিদ্যা অর্জনে ব্রতী হতে বিদ্যালয়ে ছুটির বিধান রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের কার্যধারা কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিয়েই নয়। বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকসমাজ তাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণের পরিকল্পনা নির্ধারিত হয় বিদ্যালয় কার্যকালকে মাথায় রেখে শিক্ষাদানের মত মানসিক পরিশ্রমের বিষয়টিতে বিশ্রামের মত বিষয়কে অবহেলা করার অর্থ তাদের পরবর্তী কার্য পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধান্বিত করে তোলা। তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাদের শতভাগ দিয়ে কি কর্মে উদ্যোগী হবে? এই দ্বিধার প্রভাব সত্যিই আজ তাদের কর্মধারায় ছাপ ফেলতে শুরু করেছে। শিক্ষক সমাজ আজ নানা কাজে ব্যতিব্যস্ত। শিক্ষার্থীরা আজ তাদের পাঠগ্রহণের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। একদিকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট, অন্যদিকে পাঠদান বহির্ভূত কাজে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে শিক্ষকদের জীবন থেকে ছুটি নামক অধ্যায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ভ্যাকেশনাল বিভাগে কর্মরত বিধায় শিক্ষকদের ছুটি অনেকের দৃষ্টি কেড়ে নিত। বর্তমানে তাদের কাজের ব্যাপকতা বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে সাপ্তাহিক ছুটি বাদে প্রাথমিক শিক্ষকরা ৭৫ দিন ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৮৫ দিন ছুটি ভোগ করে আসছেন।

২০১৭ সালের ছুটির তালিকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫টি সাপ্তাহিক ছুটি  শুক্রবারকে ছুটি হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ শিক্ষকরা উক্ত দিনগুলোতেও কর্মরত থাকে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষকদের ছুটির সংখ্যা কমে ৬০ দিনে দাঁড়ায়।

এছাড়াও ছুটির দিনে শিক্ষকরা সাধারণত মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন নেছা গোল্ড কাপ অনুষ্ঠান ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭টি কমিটির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে,সরকারি চাকরিজীবীরা ছুটির দিনে কর্মরত থাকলে ভাতা পেয়ে থাকেন। অথচ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ভাতাতো দূরের কথা ভ্যাকেশনাল বিভাগের কর্মচারী হিসেবে ছুটি না দিয়ে নন-ভকেশনাল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। সরকারি অন্যান্য বিভাগে সপ্তাহে ২দিন ছুটি। এছাড়াও আছে সরকারি গেজেটের নির্ধারিত ছুটি, চিকিৎসাসহ অর্জিত ছুটি। অথচ প্রাথমিক শিক্ষকদের একমাত্র চিকিৎসা ছুটি তাও ‘হাফ এভারেজ পে’। তাদের চিকিৎসা ছুটি একমাত্র ভরসা। ননভ্যাকেশনাল বিভাগের মত প্রাথমিক শিক্ষকদের সকল সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির প্রত্যাশা করুণা নয়। এটা শিক্ষকদের অধিকার।
‘প্রাথমিক শিক্ষা সংবাদ’ ফেসবুক আইডি থেকে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ২০১১ সালে ১৮ দিন, ২০১২-১৪ সালে ১৭ দিন, ২০১৫-১৬ সালে ৬ দিন।আর এ বছর ২০১৭ সালে ৩ দিনে এসে দাড়িয়েছে। আগামী বছর তা ১ দিনে নেমে আসতে পারে এছুটি-এমন দাবী তাদের।অথচ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এছুটি চলিত বছরেও ১০ দিন রয়েছে।

শিক্ষা সংবাদটি আরো বলেন,প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কি গরম লাগেনা। ২০১৭  সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটি ৮৫ দিন থেকে কমিয়ে ৭৫ দিন এবং প্রধান শিক্ষকের সংরক্ষিত ছুটি ৩ দিন থেকে কমিয়ে ১ দিন করা হয়েছে। যা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখনও ৮৫ দিন ও ৩ দিন বিদ্যমান রয়েছে।

অন্যদিকে,ছুটির দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাজ করানোর ধোঁকাবাজি বন্ধ করতে হবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষকদের ননভোকেশনাল বিভাগের সুযোগ সুবিধা ও ছুটির দিনে কাজের জন্য বিধি মোতাবেক ভাতার প্রত্যাশা করা প্রাথমিক শিক্ষকদের অধিকার। এই অধিকার আদায়ে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সবোর্পুরি,১৫টি শুক্রবারের পরিবর্তে ১৫টি কর্মরত দিবসকে ছুটি হিসেবে বিবেচনায় আনার জন্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করে দাবী জানিয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক। তাদের দাবীর সাথে আমিও সহমত পোষণ করছি।

নোট: মে দিবসকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষদের অধিকারের জন্য এ লেখা।

 

লেখক:

মো.শাহাদত হোছাইন

(এম.এ,এম.এড়,এল.এল.বি)

সম্পাদক ও প্রকাশক,কক্সনিউজটুড়ে.কম।

 

Top