ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেছেন, পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে একটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে এভাবে আগুন লাগার বিষয়টি সরকার ‘কল্পনাও’ করেনি। এফএসআরওতে আগুন লেগেছে। লাগার পরে থেকে তো আমাদের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ওই ঘটনায় ক্ষতি আরও বড় হতে পারত বলেও মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, টার্মিনালের পাশে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ ছিল। আগুন লাগার পর সেটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া গেছে।
তিনি বলেন, দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। অন্যটি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
ফলে ওই সময় গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু নাই।
তবে লোডশেডিং যাতে কম হয় এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন জ্বালানিমন্ত্রী।
গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানান মন্ত্রী। টার্মিনাল সচল হলে দ্রুত এসব কার্গো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানোর আশা করছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দিয়েছে। আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পায়রা, তারপর মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টের এই জায়গাগুলো আমরা স্টাডি করছি এবং ইনভেস্টরদেরকে আমরা ইনভাইট করছি।
২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্য ধরার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন টার্মিনাল করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে না, সেজন্য সঞ্চালন লাইনও দরকার হবে।



